গ্রাম-বাংলা

ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর গলার কাঁটা বিদ্রোহীরা

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা মার্কার প্রার্থীর গলার কাঁটা হয়েছে বিদ্রোহীরা। তবে এসব প্রার্থী নিজেদের স্বতন্ত্র বলে দাবি করছেন। নৌকার প্রার্থীরা বিদ্রোহীদের নিয়ে মহা সংকটে পড়েছেন। এতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন নৌকার প্রার্থীরা।

আর কৌশলে বিএনপির প্রার্থীরা স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা সবকটি ইউনিয়নেই নির্বাচন করছেন। গত সোমবার (১৮ অক্টোবর) মনোনয়নপত্র দাখিলের পর থেকে তারা এখন প্রচার মাঠে নেমে পড়েছেন। আগামী ১১ নভেম্বর একযোগে এসব ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।  পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় আট ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থীর বাইরে ১২ জন স্বতন্ত্র (বিদ্রোহী) প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর পাশাপাশি ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ৮জন প্রার্থী রয়েছে। এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় কোনো প্রার্থী না দিলেও কৌশলে তাদের নেতারা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন। উপজেলার আট ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থীদের নিজ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। এ নিয়ে নৌকার প্রার্থীরা চাপের মুখে রয়েছেন।

নৌকার বিদ্রোহীদের অফিসিয়ালভাবে ডেকে দু’ এক দিনের ভেতরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসবে উপজেলা আওয়ামী লীগ। জননেত্রী শেখ হাসিনার নৌকার প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগ আপ্রাণ চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তপন বিশ্বাস। তবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর নৌকার বিদ্রোহীদের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার আশিষ কুমার জানান, উপজেলার আট ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোট ৩১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এছাড়া সংরক্ষিত ২৪টি ওয়ার্ডে মোট ৮০ জন এবং ৭২টি সাধারণ ওয়ার্ডে মোট ২৮৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এ ছাড়া ২৫ অক্টোবর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার ও ২৭ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর ১১ নভেম্বর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। 

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, কলাগাছিয়া ইউনিয়নে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. দুলাল চৌধুরী, বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আ. লীগের সদস্য মো. মাইনুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম শওকত আলী চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মনিরুজ্জামান।

গলাচিপা সদর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী ইউনিয়ন আ. লীগের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান হাদী, মুহাম্মাদ নাসির উদ্দিন, মুহাম্মাদ বাহাউদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাবিবুর রহমান। গজালিয়া ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী খালিদুল ইসলাম স্বপন, বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আ. লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জয়নাল আবেদীন। 

চরকাজল ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মো. সাইদুর রহমান রুবেল মোল্লা, বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আ. লীগের সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহীন গাজী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জাহিদ হোসেন। চরবিশ্বাস ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী মো. তোফাজ্জেল হোসেন বাবুল মুন্সি, বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আ. লীগের সাবেক কার্যকরী কমিটির সদস্য মো. রাজা মিয়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইমরান নাজির। ডাকুয়া ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বিশ্বজিৎ রায়, বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আ. লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. মামুন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান খন্দকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ আলম আকন।

পানপট্টি ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কালাম, বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মাসুদ রানা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মাহবুবুর রহমান। বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী আবু জাফর খান, বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আ. লীগের সহ-সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইউসুফ মোল্লা, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইউসুফ।

Back to top button