আন্তর্জাতিক

গ্রেট গ্র্যান্ড প্যারেন্টসের রেকর্ড গড়তে চান ব্রিটেনের সর্বকনিষ্ঠ নানি

বাল্যবিয়ের অনুমতি নেই। অথচ ১৭ বছর বয়সে এক মা সন্তান জন্ম দিলেন। উন্নত বিশ্ব বলে অভিহিত একটি দেশের ঘটনা এটি। ওই মায়ের বয়স যখন ৩৩ বছর তখন তার ওই সন্তানের বয়স ১৬ বছর। আবার ১৬ বছর বয়সে ওই সন্তান জন্ম দিলেন একটি মেয়ে। আর ৩৩ বছর বয়সে দেশের সর্বকনিষ্ঠ নানি হিসেবে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন ওই নারী। এমনি ঘটনা ঘটেছে ব্রিটেনে।

ব্রিটেনের উত্তরা লের শহর হাল। সেখানেই সংসার জেনি মেডলাম আর তার দ্বিতীয় স্বামী রিচার্ডের। সেখানে বাস করেন তাদের তিন মেয়ে- ১৬ বছর বয়সী চারমাইন, ১৩ বছরের চেলসী এবং ১০ বছর বয়সী শেরলেট।

গত বছর চারমাইন তার মাকে জানান, তিনি প্রেগন্যান্ট। অল্প বয়সে মেয়ের এমন ঘটনায় কিছুটা বিচলিত হলেও আশ্চর্য হননি জেনি। কারণ, তিনি নিজেই প্রেগন্যান্ট হয়েছিলেন ১৭ বছর বয়সে। আর তাই মেয়ের স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানের বিষয়ে সব ধরনের সহায়তা করেন তিনি। সৎ বাবা হলেও রিচার্ড তার মেয়ে চারমাইনকে নিজ মেয়ের মতোই আদর করেন। রিচার্ড ও জেনির আদর ও সহায়তায় এ বছরের জুন মাসে চারমাইন জন্ম দেন একটি মেয়ে, নাম রাখেন ইসলা মে।

ইসলাকে নিয়ে জেনি ও রিচার্ড যখন বাইরে যায় বা কারো বাসায় যান, তখন সবাই তাদের নিজ সন্তান বলে ভুল করে। অনেক সময় মানুষের ওই ভুল শুধরে দিলেও, অনেকে বিশ্বাস করতে চায় না ইসলা চারমাইনের মেয়ে। আমি এখন নানি আর রিচার্ড গ্রেন্ড প্যারেন্টস (পিতামহ)। জীবনে ঘূর্ণিঝড়ের মতো কিছু ঘটলেও আমরা আমাদের পরিবার নিয়ে সুখে আছি। নাতনি ইসলাকে নিয়ে এমনই প্রতিক্রিয়া জানান জেনি।

অল্প বয়সে মা এবং নানি হওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে জেনি আরো জানান, অল্প বয়সে মা হলে শারীরিক যেসব ঝুঁকি থাকে তা আমি আমার মেয়েকে আগে থেকেই জানিয়েছিলাম। চারমাইনকে আমি বলেছিলাম, তোমার শরীরে তুমি কী বহন করতে পারবে আর কী সহ্য করতে পারবে, তা তোমার সিদ্ধান্ত।

এদিকে অল্প বয়সে ব্রিটেনের সর্বকনিষ্ঠ নানা-নানি হওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে রিচার্ড-জেনি দম্পতি জানান, অল্প বয়সে নানা-নানি হলে নাতি-নাতনিদের সাথে অনেক দিন থাকা যায় আর তাদের সাথে বেশি বছর ভালোবাসা ও সুখের জীবন কাটানো যায়। জেনি-রিচার্ড দম্পতি ভবিষ্যতে ব্রিটেনের সর্বকনিষ্ঠ গ্রেট গ্র্যান্ড প্যারেন্টস (প্রপিতামহ) হিসেবেও রেকর্ড করতে চান।
তারা বলেন, যেহেতু আমাদের মেয়ে অল্প বয়সে মা হয়েছে, তাই তার মেয়ে অল্প বয়সে মা হলে আমরা গ্রেট গ্র্যান্ড চাইল্ড (নাতনির মেয়ে) পাব বলে প্রত্যাশা করি।

চারমাইন তার মেয়ে ইসলাকে নিয়ে ইসলার বাবার সাথে একই বাসায় বাস করছে। ইসলার বাবার পরিবারও তাদের সাথে একসাথে থাকছে এবং ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ রাখছে ওই টিনেজ দম্পতিকে।

সংশ্লিষ্ঠ খবরগুলো

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button